প্রকাশিত: Tue, May 9, 2023 2:41 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 4:47 AM

বিক্ষোভে নেমেছে পিটিআই, ইসলামাবাদ ও লাহোরে ১৪৪ ধারা জারি

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ ও জমি আত্মসাতের মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান গ্রেপ্তার

ইমরুল শাহেদ: পাকিস্তানের স্থবির রাজনীতি হঠাৎ করেই অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছে। দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রধান ইমরান খানকে আল-কাদির ট্রাস্ট মামলায় ইসলামাবাদ হাইকোর্ট চত্বর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি এই মামলায় জামিনের জন্য গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে প্যারামিলিটারি রেঞ্জার্স। জিওটিভি

ইমরান খান গ্রেপ্তার হওয়ার পরপরই পিটিআই দলের পক্ষ থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবেই ইসলামাবাদ ও লাহোরে বিক্ষোভ শুরু হয়ে যায় এবং দাঙ্গা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পুলিশ বলেছে, সব কিছু তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু লাহোরে রাস্তাঘাট বন্ধ করে দিয়ে পিটিআই কর্মীরা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে। 

ইসলামাবাদ হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি আমির ফারুক ইসলামাবাদের পুলিশ প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেলকে ১৫ মিনিটের মধ্যে আদালতে হাজির হতে বলেছিলেন। কারণ ন্যাব ইমরান খানের হেফাজত চাইতে পারে। বিচারক বলেছেন, তিনি সংযম প্রদর্শন করছেন। একই সঙ্গে সতর্ক করেছেন। বলেছেন, যদি ইসলামাবাদের পুলিশ প্রধান আদালতে উপস্থিত না হন, তাহলে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে তলব করবেন। ক্ষোভ নিয়ে এই বিচারক ওইসব ব্যক্তির উদ্দেশ্যে বলেছেন, আদালতে আসুন এবং আমাদেরকে বলুন- কেন ইমরান খানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং কোন মামলায়। 

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় কোষাগারের ক্ষতি করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো (ন্যাব)। তার বিরুদ্ধে ন্যাবের অভিযোগ হলো, ২০১৯ সালে, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ঝিলম জেলার সোহাওয়াতে আল-কাদির বিশ্ববিদ্যালয়ের সুফিবাদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ একজন ধনকুবেরসহ জাতীয় কোষাগারের ৫০ বিলিয়ন রুপি লুটপাট এবং ৪৫০ কানাল ভূমি আত্মসাৎ। 

নিউজ১৮’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইমরান খানের বিরুদ্ধে  ১২০টি মামলা রয়েছে। এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাস, ধর্মাবমাননা, হত্যা, সহিংসতা এবং উস্কানিদাতা হিসেবে কাজ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। 

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, ইমরান খানের ‘রাজনীতি স্পষ্ট মিথ্যা, অসত্য, ইউ-টার্ন এবং প্রতিষ্ঠানের উপর জঘন্য আক্রমণ দ্বারা সংজ্ঞায়িত।’ তিনি টুইট করেছেন, ‘বিচার বিভাগকে আপনার ইচ্ছার কাছে বাঁকানো এবং এমন আচরণ করা যেন নিয়ম তার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। আমি আমার টুইটে আপনার সম্পর্কে যা বলেছি তা বিগত কয়েক বছরের ঘটনা দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।’

পিটিআই থেকে টুইটারে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, রেঞ্জার্স সদস্যরা ইমরান খানকে জামার কলার ধরে টেনে নামিয়ে প্রিজন ভ্যানে ধাক্কা মেরে ঢোকায়। ইমরান খানকে গ্রেপ্তারের সময় ইসলামাবাদ হাইকোর্টে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার গহর খান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইমরান খানকে নির্যাতন করা হয়েছে। পুলিশ ইমরানের মাথায় ও পায়ে আঘাত করেছে। কিন্তু স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রানা সানাউল্লাহ ইমরান খানকে নির্যাতন করার কথা প্রত্যাখান করে বলেছেন, বেশ কয়েকবার নোটিশ দেয়া সত্ত্বেও ইমরান খান আদালতে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হন। জাতীয় কোষাগারের ক্ষতি করার কারণে তাকে গ্রেপ্তার করেছে জাতীয় জবাবদিহিতা বিষয়ক ব্যুরো।

গ্রেপ্তার হওয়ার আগে ইমরান খান বলেছেন, ‘আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই। ওরা আমাকে কারাগারে নিয়ে যেতে চায়। আমি সেজন্য প্রস্তুত।’  সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব