প্রকাশিত: Tue, Feb 28, 2023 3:30 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 5:40 PM

অমর একুশে বইমেলা শেষ ৪৭ কোটি টাকার বই বিক্রি

শহীদুল ইসলাম: রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। এবারের মেলায় শুরুর দিকে দর্শনার্থীর তুলনায় বই বিক্রি কম হলেও শেষ দিকে এসে পাল্টে যায় মেলার দৃশ্যপট। স্টলগুলোতে দেখা যায় তালিকা হাতে পাঠকদের ভীড় ও বই কেনার দৃশ্য। দীর্ঘদিন করোনা মহামারির পর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, কাগজ-কালির দাম বৃদ্ধির ফলে এবারে বইয়ের দামও একটু বেশি ছিলো। মেলা শেষে প্রকাশকরা যখন লাভ-লোকসানের হিসাব মিলাচ্ছিলো তখন অনেক প্রকাশকের চেহারাতেই হতাশার ছাপ চোখে পড়ে। প্রকাশকদের মতে এবার কিছু কিছু প্রকাশনীর কাঙ্খিত চাওয়া পূরণ হয়নি, হাতে গোনা কয়েকটা প্রকাশনীর প্রত্যাশা অনুযায়ী বই বিক্রি হয়েছে। মেলাতে প্রচুর মানুষ এলেও বইয়ের বিক্রি আশানুরূপ হয়নি। 

বাংলা একাডেমির তথ্যকেন্দ্রের হিসাব অনুযায়ী, এ বছরের মেলায় ৪৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গতবছর এ বিক্রির পরিমান ছিলো ৫২ কোটি টাকার বেশি। এবছর মেলায় নতুন বই এসেছে মোট ৩ হাজার ৭৫০ টি। প্রকাশকরা জানান, প্রতি বছরের মতো এবারও গল্প-উপন্যাস ও সায়েন্স ফিকশনের বই বেশি বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি অনুপ্রেরণামূলক বইয়ের বিক্রিও বেশ ভালো ছিল। 

সমাপনী অধিবেশনে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব কে এম মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, এ বছরের মেলায় ৪৭ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। গতবছর এ বিক্রয়ের পরিমান ছিলো ৫২ কোটি টাকার বেশি। তবে এই তথ্যে বই বিক্রির প্রকৃত চিত্র উঠে আসেনি বলে মনে করেন পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সহসভাপতি মাজহারুল ইসলাম। তিনি বলেন, কিসের ভিত্তিতে বাংলা একাডেমি এই তথ্য দেয় জানি না। অনেক প্রকাশকরাই ফিগারের সঙ্গে একমত না।

আয়োজকরা জানান, একুশে বইমেলার জন্য আলাদা কোনো অর্থ বরাদ্দ দেয় না সরকার। স্পন্সরশিপ, স্টল ভাড়া এবং বাংলা একাডেমির বার্ষিক বাজেট থেকে পাওয়া অর্থে মেলার ব্যয় মেটানো হয়।

বইমেলার জন্য সরকারের তরফ থেকেও আলাদা বরাদ্দ দেওয়ার দাবি জানিয়ে রামেন্দ্র মজুমদার বলেন, একুশের চেতনাকে ধারণ করে এই বইমেলা অনুষ্ঠিত হয়। এখানে সরকার আলাদা একটা বরাদ্দ দিতে পারে। ৪ থেকে ৫ কোটি টাকা হলে তো মেলায় আর বেসরকারি খাতের স্পন্সর দরকার হয় না। সম্পাদনা: মোশাররফ