প্রকাশিত: Mon, Mar 20, 2023 2:21 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 10:27 PM

মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব বললেন

সরকারি সহযোগিতা পেলে গরুর মাংস ৬০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করা সম্ভব

আশিক রহমান: বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতির মহাসচিব রবিউল আলম বলেছেন, গরুর মাংসের দাম কমানোর তাৎক্ষণিক কোনো যাদুমন্ত্র মাংস ব্যবসায়ীদের হাতে নেই। তবে সরকার চাইলেই দেশীয় গরুর মাংসের দাম ৬০০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য করতে পারে ব্যবসায়ী ও আমদানিকারকদের।

তিনি বলেন, আমদানিকারকেরা কতো টাকায় মাংস কিনেন এবং কতো টাকায় বিক্রি করবেনÑএর একটা সীমারেখা টানতে হবে। আমদানিকৃত মাংস ৪০০ টাকায় পাওয়া গেলে তখন আর দেশীয় মাংস ৬০০ টাকার ওপরে বিক্রি করতে পারবে না কেউ। সরকারের এই একটি সিদ্ধান্ত ও নজরদারিই পারে রমজানে মাংসের দামে লাগাম টানতে। 

তিনি বলেন, দেশে গরুর মাংসের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট মাংসের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছে। সিন্ডিকেটের সঙ্গে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনাও যুক্ত। মাংসের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির দায় প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। মাংস আমদানি করা হয়। দেশের সব কোল্ড স্টোরেজে মাংস সংরক্ষিত থাকে। বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে আমদানিকারকেরা মাংসগুলো সরবরাহ করে। এই মাংস মানুষের খাওয়ার উপযুক্ত কিনা তার কোনো পরীক্ষা-নিরীক্ষা নেই। সরকার মাংস আমদানির অনুমতিপত্র বাতিল করার পরও সীমান্ত দিয়ে অবাধে মাংস অবৈধভাবে পাচার হয়ে আসছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে মিয়ানমারের নাম। 

রবিউল আলম বলেন, দেশের ক্ষুদ্র মাংস ব্যবসায়ীরা সংকট সৃষ্টি করবেন কীভাবে? চাইলেও কি তারা এটি করার সামর্থ্য রাখেন? রাখেন না। কারণ তাদের হাতে মাংস ফ্রিজিং করার ব্যবস্থা নেই। ফ্রিজিং মাংস তাদের কাছ থেকে ক্রেতারা কিনেনও না। একজন মাংস ব্যবসায়ীর স্বল্প পুঁজি থাকে। মাংস নিয়ে সিন্ডিকেট করার সম্ভব নয় তাদের পক্ষে।

তিনি বলেন, মাংসের দাম কমানো-বাড়ানো, তদারকির কোনো এখতিয়ার মাংসব্যবসায়ী সমিতিকে দেওয়া হয়নি বা সেই সুযোগ নেইও তাদের। চাইলেও আমরা নিজ উদ্যোগে মাংসের দাম কমানোর সুযোগ নেই। কারণ সমিতির কার্যক্রমকে স্তব্ধ করে দেওয়া হয়েছে, তাদের অফিস অবৈধভাবে দখল করে নেওয়ার মাধ্যমে। বাণিজ্য, প্রাণিসম্পদ, স্থানীয়, স্বররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি করপোরেশন ও ভোক্তা অধিকার আমাদের সঙ্গে আলোচনার কোনো প্রয়োজনীয়তাই অনুভব করে না। যে কারণে আইন অমান্যের ভয়ে আমরা এই মুহূর্তে নিজ উদ্যোগে কোনো কিছু করি না। 

রবিউল জানান, দেশে প্রতি বছর মাংসের চাহিদা মেটাতে ১ কোটি ২০ লাখ গরু-মহিষ প্রয়োজন। ছাগল- ভেড়া ৮০ থেকে ৯০ লাখ। এই হিসাবটি কোরবানিসহ প্রযোজ্য। চাহিদার ৮০ শতাংশ দেশীয়ভাবে মেটানো হয়, আর ২০ শতাংশ অবৈধভাবে পাচার করে নিয়ে আসা হয়। অবৈধ মাংস পাচার করার কারণে সরকার ও দেশের জন্য বড় ক্ষতি হয়। কারণ এতে মাংসের বাজার স্থিতিশীল করা যায় না। সম্পাদনা: সালেহ্ বিপ্লব