প্রকাশিত: Sun, May 7, 2023 2:06 PM
আপডেট: Tue, Jan 27, 2026 8:51 AM

বাংলাদেশ দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে: আইএমএফ

মাজহারুল মিচেল: বাংলাদেশ সফর শেষে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মিশন প্রধান রাহুল আনন্দ রোববার এক বিবৃতিতে এ কথা বলেন। 

তিনি বলেন, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের একটি দ্রুত বর্ধনশীল অর্থনীতি হিসেবে অবস্থান ধরে রাখতে পারলেও বাংলাদেশের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। চ্যালেঞ্জ তিনটি হলো ধারাবাহিক উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বৈশ্বিক আর্থিক খাতের অস্থিরতা বৃদ্ধি পাওয়া ও গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধির শ্লথগতি। আইএমএফ মনে করছে, এসব কারণে দেশের প্রবৃদ্ধি, বিদেশি মুদ্রার মজুত ও স্থানীয় মুদ্রা টাকার ওপর চাপ অব্যাহত থাকবে।

বর্তমান বিশ্ব প্রেক্ষাপটে অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর সূচক মূল্যস্ফীতির লাগাম টেনে ধরাই এখন বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে আইএমএফ। 

বিবৃতিতে রাহুল আনন্দ বলেছেন, এই সফরে আমরা সামষ্টিক অর্থনৈতিক ও আর্থিক খাতের সাম্প্রতিক গতিপ্রকৃতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আইএমএফ  সমর্থিত কর্মসূচির মূল যেসব প্রতিশ্রুতি ছিল, সেগুলো কতটা পূরণ হলো, তার অগ্রগতিও পর্যালোচনা করেছি। বর্ধিত ঋণসুবিধা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সুবিধা (ইএফএফ), রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ) ব্যবস্থার প্রথম পর্যালোচনায় আনুষ্ঠানিকভাবে তা মূল্যায়ন করা হবে, যা এ বছরের শেষের দিকে হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আইএমএফের স্টাফ পর্যায়ের এক প্রতিনিধিদল গত ২৫ এপ্রিল ঢাকা সফরে আসে। সফরশেষে রোববার ফিরে গেছে দলটি। 

উল্লেখ্য, গত বছরের ২৪ জুলাই ঋণ চেয়ে আইএমএফের কাছে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ। এতে পরিমাণের কথা উল্লেখ ছিল না। পরে ১২ অক্টোবর ওয়াশিংটনে বিশ্বব্যাংক-আইএমএফের বার্ষিক সম্মেলনে যোগ দিয়ে গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার ৪৫০ কোটি ডলারের ঋণসহায়তার কথা উল্লেখ করেন।

এরপর চলতি বছরের ৩০ জানুয়ারি বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)। এই ঋণের প্রথম কিস্তি ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে। ২০২৬ সাল পর্যন্ত আইএমএফের কর্মসূচি চালু থাকার কথা রয়েছে।

আইএমএফের ঋণের সঙ্গে দেয়া বেশ কিছু শর্ত বাংলাদেশ এরই মধ্যে পূরণ করেছে এবং আরও কিছু শর্ত পূরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। তবে আইএমএফের শর্ত পূরণ নিয়ে দেশে নানা আলোচনা-সমালোচনাও রয়েছে। সম্পাদনা: শামসুল বসুনিয়া, সালেহ্ বিপ্লব