প্রকাশিত: Sat, May 20, 2023 2:33 AM
আপডেট: Tue, Jan 27, 2026 10:09 AM

ব্যবসায়ীরা বলছেন, তদারকির প্রভাব

বাজারে সকল জাতের মুরগির দাম কমেছে

মাজহারুল মিচেল: বিভিন্ন খামার মালিক সংগঠন ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুক্রবার রাতে কথা বলে এ তথ্য জানা যায়।

বাংলাদেশ জাতীয় খামার রক্ষা পরিষদের সভাপতি আমাদের নতুন সময়কে জানান, সারা দেশে ব্রয়লারের দাম কমে বর্তমানে হয়েছে ১৮০-২০০ টাকা কেজি আর সোনালি হয়েছে প্রতি কেজি ২৫০ টাকা। বৃহস্পতিবার ব্রয়লার বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২৭০ টাকা ও সোনালি হয়েছে ৩২০ টাকা।

তিনি জানান, দশটি বড় পোল্ট্রি কোম্পানি খামার থেকে মুরগির দাম কমানোর পর খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে। 

সম্প্রতি প্রচন্ড গরমে ঐসব কোম্পানির প্রচুর মুরগি মারা যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কাজী ফার্মস লিমিটেড, সিপি বাংলাদেশ, আফতাব বহুমুখী ফার্মস লিমিটেড, প্যারাগন পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেড, নাহার এগ্রো লিমিটেডসহ দশটি কোম্পানি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি করছে ১৬৫ টাকায়। তবে এলাকা ভিত্তিতে এর দাম উঠা নামা করছে বলেও তিনি জানান।

রাজধানীর পলাশী বাজারে বেলা দেড়টার দিকে দেখা গেছে, প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকার আশপাশে। আর সোনালি মুরগির দাম চাওয়া হচ্ছিল প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ২৬০ টাকা। নিউমার্কেট বনলতা কাঁচাবাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি করতে দেখা যায়। কারওয়ান বাজারে দর আরেকটু কম। প্রতি কেজি ১৮০ টাকায় বিক্রেতারা এই মুরগি বিক্রি করছিলেন।

তবে খামার মালিক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে তদারকি বাড়ার কারণে এর প্রভাব পড়েছে দামে।

কারওয়ান বাজারের খুচরা বিক্রেতা আনোয়ার হোসেন সুজন বলেন, কাপ্তান বাজারের পাইকারি বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম বর্তমানে প্রায় ১৯০ টাকা কেজি। এক সপ্তাহ আগে এর দাম ছিল ২৭০ টাকা। একইভাবে সোনালি মুরগির পাইকারি দাম ৩৫০ টাকা থেকে ২৬০ টাকায় নেমে এসেছে।

কারওয়ান বাজারের ক্রেতা গোলাম রব্বানী বলেন, দাম কমলে তার মতো সাধারণ ক্রেতাদের কিছুটা স্বস্তি মিলবে।

তিনি বলেন, দাম কমায় আজ আমি ৩ কেজি ব্রয়লার মুরগি কিনেছি। দাম একই থাকলে ১ কেজির বেশি কিনতাম না।

একইভাবে ঢাকার মিরপুরের দুয়ারীপাড়া কাঁচা বাজারের ব্রয়লার মুরগি ও সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে প্রতি কেজি ২০০ টাকা। 

তেজগাও পাইকারি মুরগি ব্যাবসায়ি সমিতির সভাপতি  মোহাম্মদ আলমগির আমাদের নতুন সময়কে জানান, শুক্রবার থেকে সেখানে সকল মুরগির দাম কমতে শুরু করেছে। এর পাশাপশি ডিমের দাম একটু কমেছে। বর্তমানে প্রতি শ’তে ২০-৩০ টাকা কমেছে।

চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরের খুচরা বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম জানান, গতকাল তিনি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ২০০ টাকায় বিক্রি করলেও দাম আরও কমবে বলে আশা করছেন।

জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এএইচএম শফিকুজ্জামান বলেন, বড় কোম্পানিগুলোর সরাসরি তাদের খামার থেকে কম দামে মুরগি বিক্রি করায় বাজারে মুরগির দাম কমেছে। গবেষণার মাধ্যমে প্রকৃত উৎপাদন খরচ বের করতে পারলে দাম আরও কমে যেত বলে মনে করেন তিনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় যদি দাম নির্ধরণ করতে পারে তারা সেটাকে মনিটর করবো বলে তিনি জানান। সম্পাপদনা: শামসুল হক বসুনিয়া