প্রকাশিত: Mon, Mar 27, 2023 2:40 PM আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 5:07 PM
কেউ ‘স্যার’, ম্যাডাম না বললেও ব্যক্তিত্ব দিয়ে সেটা আদায় করা যায়
নাদেরা সুলতানা নদী : দেশে স্যার সম্বোধনে ডাকার আহ্বান নিয়ে বেশ কিছু হয়ে গেলো। যারা নিউজটি ফলো করেছেন তাঁদের নিশ্চয়ই জানা আছে। এই প্রসঙ্গে আমি একটু অন্য রকম একটা ভাবনা, কিন্তু রিলেভেন্ট হতে পারে, শেয়ার করি। অস্ট্রেলিয়া আসার পর বেশ কবার সৌভাগ্য হয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট টিমের খেলা দেখার, মাঠে বসে। একবার যে গ্যালারিতে বসেছি, পাশেই বসেছেন দেশের সবচেয়ে নামকরা ক্রিকেটারদের জীবন সঙ্গিনীরা। আমি এবং আমার সঙ্গে থাকা আমার এক আত্মীয়ের ছোট ফুটফুট কিউট দুই মেয়ে এবং আমার পুত্র নভোও আমাদের সঙ্গে বসেছে। খুব স্বাভাবিকভাবেই বাচ্চারা বাংলাদেশ খুব ভালো করলেই লাফালাফি করছে। নিজেরা তো করছিই। বাচ্চারা উত্তেজনায় এদিক সেদিক করে, সেই স্ত্রীদের কাছেও চলে যাচ্ছে। আমি খুব অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম, সেই বিখ্যাত ক্রিকেটারের একজন উয়াইফ আমাদের দিকে ভুল করেও আই কন্টাক্ট করছেনা বা আমাদের বাচ্চাদের আদর করে বা তাকিয়ে একটু প্রশ্রয়ের হাসিও দিচ্ছে না।
সেই খেলায় আমরা ইংল্যান্ডকে হারিয়েছিলাম। বাসায় ফিরে, কাছের বন্ধুদের মাঝে এই নিয়ে কথাও বলছিলাম। কেন এমন, আমার যেটা মনে হলো, বাংলাদেশে তারকা খ্যাতি পাওয়া বা তাঁদের পরিবারের সঙ্গে অনেক সময় আমরা বাংলাদেশিদের অনেকেই নানান ভাবে খুব খারাপ আচরণ করি, হয়রানি করি মিডিয়াতেও আসে নেতিবাচক নিউজ। কে জানে এমন তিক্ততার জন্যেই হয়তো এরপর আমাদের মতোন নিরীহ আমজনতা হলেও হয়তো তারকা বা তাঁদের জীবনসঙ্গীরা আর বিশ্বাস করতে চান না। এমন ব্যাখ্যা নিজেই বের করলাম, নিজেকে দিতে সান্ত্বনা। দেশে তখন চাকরি করি একটা অফিসে। দেখতে বেশ ভালো এক মেয়ে আমার কলিগ ছিল কিছুদিনের জন্যে। মেয়েটি কাস্টোমার সার্ভিস করতে যেয়ে দেখতাম, তার চেয়ে বয়েসে খুব ছোট ছেলে, বা সম বয়েসি কেউ হলেও অনেক বেশি ভাইয়া, ভাইয়া করে কথা বলতো, অপ্রয়োজনে ভাইয়া ডাকতো আমি তখন তার টিম লিডার, পাশের রুমে বসে শুনতেও আমার খুব অস্বস্থি হতো।
তাকে ডেকে জিজ্ঞেস করলাম কেন এমন, কেন তুমি তাদের নাম সম্বোধনে স্বাভাবিক এপ্রোচ নিয়ে কথা বলতে পারছো না। এটা আমার কাছে নিজের ব্যক্তিত্বের একটা দুর্বল দিক মনে হয়/বী কনফিডেন্ড অ্যান্ড বোল্ড মেয়ে। ওর কথায় যেটা বুঝেছিলাম, সকলেই তার প্রেমে পড়ে যায়, হাবুডুবু খায় এমন একটা সমস্যা মোকাবেলায় সে এমন করতো। এই বিষয়গুলো কেন মনে এলো। আমরা অনেকেই চাই আমাদের সকলেই খুব সম্মান করুক, অনেকেই চাই আমাদের ভয় পাক, অনেকেই চাই আমি যে সমাজের উঁচু স্থান বিলং করি এটা সকল জায়গায় আগে প্রকাশ পাক। আমাদের অনেকের প্রিয় ডায়ালগ। ‘তুই জানোস আমি কে’ মানুষের সঙ্গে মিশে যেয়েও যে আপনি সম্মানিত থাকতে পারেন, কেউ স্যার, ম্যাডাম না বললেও যে আপনার ব্যক্তিত্ব দিয়ে সেটা আদায় করতে পারেন, এই মন্ত্র বোধ হয় খুব সোজা না বা আমাদের মাঝে খুব কম মানুষই তা ধারণ করে। নাদেরা সুলতানা নদী
মেলবোর্ন, অস্ট্রেলিয়া। ফেসবুক থেকে
আরও সংবাদ
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট
মতিউর প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩ ব্যাচের বন্ধুদের গ্রুপে সৎ জীবন যাপনের উপদেশ দিতেন!
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট