প্রকাশিত: Mon, Apr 3, 2023 3:01 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 3:28 PM

রোজা এবং চিকিৎসকের উপদেশ

মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ:[১] ইসলাম ধর্মে রোজা ফরজ। প্রচণ্ড গরমে পানিশূন্যতা এড়াতে ইফতার, সেহেরী এবং রাতে প্রচুর পানি পান করুন। লেবু, বেলের সরবত পান করা যেতে পারে। কোকা কোলা জাতীয় কোমল পানিয়তে কৃত্রিম রঙ, অতিরিক্ত চিনিসহ ক্ষতিকর রাসায়নিক পদার্থ থাকে, এগুলো বর্জন করাই ভালো। ‘রুহ আফজা’ জাতীয় পানিয়তে এমন বিশেষ কিছু নেই, যা রোজা রাখবার জন্য জরুরি। ডাব, কলা নিঃসংকোচে খান। প্রতিদিন একটি ডিম অনায়াসে খেতে পারেন। অতিরিক্ত তেল গ্রহণ বন্ধ করতে সিদ্ধ ডিমই উত্তম। 


[২] পেঁয়াজু, বেগুনী, চপ, কাটলেট মুখোরোচক হলেও এগুলো এসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। ডুবো তেলে ভাজা হওয়ার কারণে এগুলোতে  প্রচুর ‘ট্রান্সফ্যাট’ থাকে। এতে কলোস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে। অনেকেই পুরো রমজান জুড়েই ইফতারীতে এগুলো রাখেন। যাদের উচ্চ রক্তচাপ আছে তাদের জন্য এগুলো প্রকান্তরে ‘বিষ’। বিকল্প হিসেবে চিড়া, মুড়ি, খই পানিতে ভিজিয়ে দই, দুধ ইত্যাদি দিয়ে খেতে পারেন। সরুচালের বদলে লাল মোটা  চালে ভিটামিন ‘বি’ সহ দরকারি পুষ্টিগুণ থাকে। ভাতের মাড় না ফেলে তাতে ডাল, ঝোল মিশিয়ে অনেকটা কর্ণসুপ বানিয়ে শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী এবং স্তন্যদানকারী মা সহ অন্যরা খেতে পারেন। 


[৩] পেয়ারা, বাতাবী লেবু, কমলা ভিটামিন সি এর প্রয়োজন মেটাবে। তরমুজে জলীয় অংশের সঙ্গে আয়রনসহ দরকারি খনিজের যোগান দেবে। সারাদিন পানাহার বন্ধের পর খেজুর দরকারি ক্যালরি জোগাতে সাহায্য করবে। ডায়াবেটিক রোগীরা মিষ্টি ও মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন ফিরনি, পায়েস, চিনির সরবত পরিহার করবেন। ইনসুলিনসহ খাদ্যচার্ট রোজাকে বিবেচনায় নিয়ে অবশ্য অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে হালনাগাদ করে নিন। দুধ আদর্শ খাদ্য হলেও যাদের আই বি এস জাতীয় রোগ আছে তাদের দুধ এবং দুগ্ধজাত খাদ্য পরিহার করা ভাল। 


[৪] ইফতার, রাতের খাবার অথবা সেহেরি যে কোন একবেলাতেই মাছ বা মাংশ যথেষ্ট। গরু, খাসীর মাংশ দাম যেমন উচ্চমূল্য তেমনই কিডনি এবং বাতের রোগীর জন্য ক্ষতিকর। খাবারে প্রচুর সালাদ রাখুন। টাটকা শাকসবজি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াবে। [৫] দোকানের খোলা খাবারে মাছিসহ বিভিন্ন কীটপতঙ্গ  জীবানু ছড়ায়। এ ছাড়া ধুলাবালু মিশে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশংকা থাকে। জিলাপি জাতীয় খাদ্যে কৃত্রিম রঙ দেয়ার কথা শোনা যায়। বিভিন্ন খাদ্য উপাদান ভাজতে একই তেল বারবার ব্যবহার বিশেষ ক্ষতিকর। বাড়তি মশলা, ঝাল এড়াতে ছোলা কাঁচা খাওয়াই  উচিৎ। পাতে বাড়তি লবণ উচ্চ রক্তচাপের রোগীর জন্য মৃত্যুদূত স্বরুপ। 


[৬] পেটভর্তি ইফতার হ্রিদরোগের আশংকা  বাড়িয়ে দেয়। ইফতারে কম খান, সেটি সম্ভব না হলে এক বসায় সব খাবার না খেয়ে ২-৩ দফায় খেতে পারেন। [৭] আগামীকাল ২৭ মার্চ, মংগলবার রাত ৮ টায় দেশ টিভিতে ‘রমজানে আপনার স্বাস্থ্য’ অনুষ্ঠানে লাইভে  কিছু কথা বলবার প্রয়াস নেবো। [৮] বিভিন্নজন আমার কাছে রমজানে স্বাস্থ্য সেবা কীভাবে পেতে পারেন সেটি জানতে চেয়েছেন। সপ্তাহের ৭ দিন ২৪ ঘন্টার যে কোন সময়ে অডিও-ভিডিও কলে  স্বাস্থ্য সেবা নিতে ফোন করুন ০১৭০৭৫৪৯৩৫৯।




মেজর ডা. খোশরোজ সামাদ। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনিং গ্যাস্ট্রো এন্টারোলজি-আই পি জি এম আর (প্রাক্তন পিজি হাসপাতাল), সিসিডি (বারডেম) যে বিষয়ে অগ্রগণ্যতা দেয়া হয়। ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসার ডিজিজ, এসিডিটি, বদহজম, কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, আই বি এস, ফ্যামিলি মেডিসিন।