প্রকাশিত: Wed, Apr 12, 2023 12:15 PM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 12:25 PM

এমন মানবদরদী আর কতোজন আছে সমাজে

রবিউল আলম : ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরীর সঙ্গে মতপার্থক্য ছিলো, মুক্তিযুদ্ধ ও বাঙালি প্রেম নিয়ে কোনো বিতর্ক ছিলো না। বিস্মিত হতাম, তার কর্মদক্ষতা নিয়ে, জীবনের সেই দিনেও শেখ হাসিনার আমন্ত্রণে হাজির হতে কার্পন্য করেননি। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কখনো আপোস করেননি। তারেকের অহমিকা, রাজনৈতিক দৈন্যদশার সমালোচনা করতে গিয়ে একটুও চিন্তা করেননি। মানুষের জন্য জীবনের শেষদিনেও তার বিশ্বাস থেকে বিচুক্ত হননি, জনস্বাস্থ্যের চিকিৎসা নিয়ে আপোস করেননি। দেশপ্রেমের উদাহরণ হয়ে থাকবেন তিনি। জাফরুল্লাহ চৌধুরীর কাছে অনেক বিষয় শেখার ছিলো, বিশেষ করে চিকিৎসা খাত। 

জীবনের শুরু থেকে শেষদিন অবদি মানুষের জন্য, দেশের জন্য করণীয় সম্পর্কে কথা বলেছেন। কাজ করেছেন। আমরা অনেকেই শেখ হাসিনার মতো করে ভাবতে পারিনি। অনেক মতবাদের সঙ্গে আপোসহীন ছিলাম, অনেক সমালোচনা করেছি। ইচ্ছে করলেও একজন জাফরুল্লাহ হতে পারবো না, তার অভাব পূরণ হবে না। তার প্রতিষ্ঠান গণস্বাস্থ্য মানবকল্যাণে ইতিহাস সৃষ্টি করেছে এবং করবে। অদ্বিতীয় জাফরুল্লাহ চৌধুরীকে আর ফিরে পাবো না। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহনকারীদের কেউ নষ্ট করতে পারেনি, পারবেও না। মান-অভিমানে অনেকে রাজনীতি থেকে হারিয়ে গেছেন। টিকে থাকতে পারেননি, উদাহরণ হতে পারেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা শুনেছিলেন অধ্যাপক আবু সাইয়িদ হতাশা থেকে অনেক কথা বলেছেন। এআর খন্দকার বই লেখে সমালোচিত হয়েছেন, চেতনা হারাতে পারেননি। জঙ্গিবাদের সঙ্গে আপোস করতে পারেননি। আজকের অনেক আওয়ামী লীগারের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা মিলাতে পারি না। লুটেরা শ্রেণি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বহন করতে পারে না, তবু চলতে হচ্ছে, চালাতে হচ্ছে রাজনৈতিক দৈন্যদশার কারণে। জাফরুল্লাহ চৌধুরীরা কী কারণে মতপার্থক্য সৃষ্টি করে ছিলেন? সেই প্রশ্নের উত্তর আমাদের অজানাই থাকবে। রাজাকারেরা তাকে বহন করতে পারেনি। যুবদল তাকে অপমান অপদস্ত করতে ছাড়েনি। আওয়ামী লীগ তার সম্মানের স্থান পূরণ করবে। 

লেখক: মহাসচিব, বাংলাদেশ মাংস ব্যবসায়ী সমিতি