প্রকাশিত: Fri, Dec 29, 2023 8:51 PM আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 4:55 AM
শ্রেণিকক্ষে স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে পাঠদান ও স্টুডেন্টস ফিডব্যাক সিস্টেম
গৌতম রায় : গত কয়েকদিনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুটো খবর আমার বেশ ভালো লেগেছে। প্রথমটি হলো শ্রেণিকক্ষে স্মার্ট বোর্ডের মাধ্যমে পাঠদান। এই স্মার্ট বোর্ডের ডিসপ্লের লেখা সংরক্ষণ করা যাবে, পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যাবে এবং চাইলে তা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শেয়ার করা যাবে। বোর্ডে কোনো লেখা মুছে ফেলার পর সেটা আর ফিরিয়ে আনা যায় না, কিন্তু এই বোর্ডের লেখা ইচ্ছামতো ব্যবহার করা যাবে, এক কর্নারে সরিয়ে রাখা যাবে কিংবা পরবর্তী সময়ে দরকার হলে আগে কী কী লেখা হয়েছিলো, সেগুলোও দেখা যাবে। এটি আর কিছুই নয়, প্রযুক্তিকে কার্যকর উপায়ে ব্যবহার করার একটি কৌশল।
২০২৩ সালে ৪৩টি বিভাগে এই বোর্ড ব্যবহারের মাধ্যমে স্মার্ট ক্লাসরুম উদ্বোধন করা হয়েছে। ঠিকঠাকমতো ব্যবহার করতে পারলে এই বোর্ড ব্যবহারের অনেক সুবিধা রয়েছে। তবে প্রসঙ্গ হচ্ছে ঠিকঠাকমতো ব্যবহার করা নিয়ে। আমি ২০১৫ সালে হেকেপ প্রজেক্টের মাধ্যমে আইইআরের একটি ক্লাসে এই বোর্ড স্থাপন করেছিলাম। কিন্তু পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, ঠিকঠাকমতো এই বোর্ড ব্যবহৃত হয়নি। ফলে আদতে সাধারণ বোর্ডের মতোই এটি ব্যবহৃত হয়েছে। সুবিধা থাকলেও স্মার্ট বোর্ডের স্মার্ট ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও বিভাগগুলোর প্রতি আহ্বান থাকবে, প্রতিটি বোর্ড যেন ঠিকঠাকমতো ব্যবহৃত হয়, সেটি নিশ্চিত করা। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয়েই উপকৃত হবেন। দ্বিতীয়টি হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টুডেন্টস ফিডব্যাক সিস্টেম চালু হতে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা শিক্ষক সম্পর্কে, সিলেবাস সম্পর্কে বা সংশ্লিষ্ট কোর্সের লেখাপড়া নিয়ে শিক্ষার্থীরা মতামত জানাতে পারবেন। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে এটি বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে বলে শুনেছি।
এই কাজটিও আমি ২০১৫ সাল থেকে করে আসছি। বিএড (সম্মান), পিজিডিএড, এমএড বা এমফিল/পিএইচডি কোর্সগুলোতে ক্লাস নেওয়ার পর আমি গুগল ফর্মের মাধ্যমে অ্যানোনিমাস ফিডব্যাক নিয়েছি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। যেহেতু অ্যানোনিমাস, তাই আমি শিক্ষার্থীদের বারবার নিশ্চিত করেছি যে, কে কী ফিডব্যাক দিচ্ছেন, সেটা আমার জানার কোনো উপায় নেই, এবং এই ফিডব্যাকের সঙ্গে তাদের মূল্যায়নের কোনো সম্পর্ক নেই। এ-ধরনের ফিডব্যাকের গুরুত্ব এবং এটি কীভাবে শিক্ষককে সহায়তা করে, সেগুলো নিয়েও তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের ফিডব্যাকগুলো আমাকে উপকৃত করেছে বেশ। যেমন, একটা কোর্সে প্রচুর ফিডব্যাক পেয়েছি যে, পেছনের বেঞ্চের শিক্ষার্থীরা আমার কথা খুব আস্তে শুনতে পান। সেই ফিডব্যাকের পরে ক্লাস লেকচারের সময়ে আমার স্বর আরও বাড়িয়েছি এবং পরবর্তীতে এই ফিডব্যাকটি তুলনামূলক কম পেয়েছি। তাছাড়া গ্রুপ ওয়ার্ক কিংবা মূল্যায়ন-সম্পর্কিত বেশ কিছু ফিডব্যাক পেয়েছিলাম, যেগুলো নিয়ে পরবর্তীতে কাজ করেছিলাম। আমার সম্পর্কে আরও একটি বড় ফিডব্যাক এসেছিলো যে, আমি সব শিক্ষার্থীকে ধরে ধরে প্রশ্ন করি না বা তাদেরকে এনগেইজ করি না। একটি ৫০/৫৫ জনের ক্লাসে সব শিক্ষার্থীকে ধরে ধরে প্রশ্ন করা কঠিন, কিন্তু এই ফিডক্যাকের পরে পরবর্তী কোর্সগুলোতে তাদেরকে আরও বেশি বেশি এনগেইজ করার চেষ্টা করেছিলাম। তবে, আমি শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাককে কতোটুকু গুরুত্ব দিয়েছিলাম, তাদের ফিডব্যাকের ওপর ভিত্তি করে নিজের উন্নতি করার চেষ্টা করেছিলাম কি না, এ বিষয়ে আমার চেয়ে বোধহয় আমার শিক্ষার্থীরাই সবচেয়ে ভালো বলতে পারবেন, কারণ তারা এই পুরো প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক গ্রহণ করা নিয়ে কিছু মানুষের বক্র হাসি যেমন দেখেছি, তেমনি বেশ কিছু নেতিবাচক কথাও আমার কানে এসেছে। কিন্তু, অস্ট্রেলিয়া আসার আগে সেমিস্টার ছাড়া বাদবাকি সেমিস্টারগুলোতে আমি ফিডব্যাক নেওয়ার কাজটি চালিয়ে রেখেছিলাম। স্বীকার করতে দ্বিধা নেই, শিক্ষার্থীদের ফিডব্যাক আমাকে ভয়ানকভাবে সহায়তা করেছে শিক্ষক হিসেবে আমার সীমাবদ্ধতাগুলো বুঝতে। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীরা যদি ঠিকঠাকমতো ফিডব্যাক দেন, তাহলে সেটি শিক্ষকদের উপকারে আসবে। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের দায়িত্ব অনেক বেশি। কোনো ধরনের পার্সোনাল বায়াসনেস পরিহার করে সংশ্লিষ্ট কোর্স ও কোর্স শিক্ষকের প্রতি অবজেক্টিভিটি নিশ্চিত করে ফিডব্যাক দিতে হবে। শিক্ষকেরও অনেক দায়িত্ব রয়েছে এতে। এ ধরনের ফিডব্যাক গুরুত্ব শিক্ষার্থীরা যাতে উপলব্ধি করতে পারেন এবং শিক্ষার্থীরা যেন দ্বিধাহীনভাবে ফিডব্যাক দিতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। যাঁরা এই প্রক্রিয়াটির সঙ্গে জড়িত আছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই কীভাবে প্রক্রিয়াটিকে ইফেক্টিভ করা যায়, সেগুলো ভেবেছেন গুরুত্বসহকারে; কিন্তু, তারপরও, আমার মনে হয়, এই কার্যকর করার বিষয়টি নিয়েও প্রচুর আলোচনা করা উচিত, ইনস্টিটিউট/বিভাগের সঙ্গে, কোর্স শিক্ষকের সঙ্গে, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে। তাছাড়া শিক্ষার্থীদের এই ফিডব্যাক গ্রহণের পর তা কীভাবে শিক্ষকের উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে, সেই বিষয়েও এই কার্যকর গাইডলাইন থাকা ও তা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন বলে মনে করি। এই দুই উদ্যোগকেই শুভকামনা জানাই। এই দুই উদ্যোগ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর শিখন-শিক্ষণ পরিবেশ তৈরিতে সহায়তা করবে, এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করি।
পুনশ্চ: একজন জানতে চেয়েছে, আমি কী ধরনের ফিডব্যাক পেতাম এবং ফিডব্যাক নিয়ে তারপর কী করতাম। কী ধরনের ফিডব্যাক পেতাম, সেটা বুঝানোর জন্য কিছু ছবি যুক্ত করে দিলাম। অ্যানোনিমাস যেহেতু, কোনো নাম নেই, এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে করা; সুতরাং শেয়ার করা যায়। এই ফিডব্যাকগুলো আমি ক্লাসেই তাদের সঙ্গে শেয়ার করতাম, এবং কোথায় কোথায় আমি কী ধরনের প্রচেষ্টা গ্রহণ করবো, এবং কোথায় কোথায় আমার বা প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার কারণে তেমন কিছু করতে পারবো না, সেগুলোও তাদের সঙ্গে আলোচনা করতাম। ফেসবুকে ২৯-১২-২৩ প্রকাশিত হয়েছে।
আরও সংবাদ
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট
মতিউর প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৮৩ ব্যাচের বন্ধুদের গ্রুপে সৎ জীবন যাপনের উপদেশ দিতেন!
চ্যাম্পিয়ন ভারত : একটা ছোট মুহূর্ত কতো বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে
‘ওই ক্যাচ হয়নি, সুরিয়াকুমারকে আবার ক্যাচ ধরতে হবে’!
কতো দেশ, কতোবার কাপ জিতলো, আমাদের ঘরে আর কাপ এলো না!
সংগীতাচার্য বড়ে গোলাম আলি খান, পশ্চিমবঙ্গের গর্ব সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ও আমি
ইন্ডিয়ান বুদ্ধিজীবী, ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র ও দেশের বুদ্ধিজীবী-অ্যাক্টিভিস্ট