প্রকাশিত: Thu, Mar 14, 2024 10:38 AM
আপডেট: Mon, Jan 26, 2026 2:20 AM

প্লিজ হোল্ড অন!

প্রভাষ আমিন: ১. ফেসবুকে ছোট্ট একটা ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এক তরুণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করতে গিয়েছেন। যেখানে অভিযানে গিয়েছেন, সেই ব্যবসায়ীর বয়স তার বাবার চেয়েও বেশি হবে। অভিযানের শুরুতেই ব্যবসায়ী খুব মৃদু স্বরে বলেন, ‘হোল্ড অন’। তাতেই ক্ষেপে যান তরুণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। উত্তেজনায় দাঁড়িয়ে যান তিনি। ব্যবসায়ীর দিকে আঙ্গুল উঁচিয়ে বলতে থাকেন, আপনি কী বললেন? আমি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রট, আপনি আমাকে বললেন, হোল্ড অন। আপনি আমাকে অনুরোধ করবেন, বলবেন একটু অপেক্ষা করেন। এই নিয়ে ফেসবুকে তোলপাড়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের কথা শুনে মনে হলো, ইংরেজিতে হোল্ড অন না বলে বাংলায় অপেক্ষা করেন বললেই তিনি খুশি হতেন।

২. তরুণ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আচরণ নিয়েই তোলপাড় ফেসবুকে। সত্যি কথা বলতে আচরণটি আমার কাছেও ভালো লাগেনি। বাবার বয়সী একজন লোকের সাথে এভাবে আঙ্গুল উঁচিয়ে ধমকের সুরে কথা বলাটা শোভনীয় নয়। ফেসবুক আদালতে বেশিরভাগ মানুষই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছেন। তবে কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছেন, একজন অসাধু ব্যবসায়ীর সাথে মধুর সুরে কথা বলা যায় না। এভাবেই বলতে হবে।

৩. প্রথম কথা হলো, সেই ব্যবসায়ী সাধু না অসাধু সেটা তো তখনও নির্ধারিত হয়নি। আর উচ্চস্বরে কথা বললেই কাজ হয় না। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কোনো অনিয়ম পেলে আইনের আওতায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন। আর সেটা আচরণ ঠিক রেখেও করা সম্ভব। আমাদের সামাজিক বাস্তবতায় বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষদের সাথে এভাবে কথা বলা যায় না। এমনকি অপরাধী হলেও না। অপরাধী হলে জেল-জরিমানা করতে পারেন। ধমক দেয়া, দুর্বব্যবহার করার এখতিয়ার কারোই নেই। আমাদের প্রত্যেকের উচিত মানুষের মর্যাদার বিষয়টি মাথায় রাখা।

৪. বিসিএস’এর লম্বা পরীক্ষা শেষে যিনি নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করছেন, তিনি অবশ্যই মেধাবী। কিন্তু মেধার সাথে আচরণটাও জরুরী। বিসিএস উত্তীর্ণ হওয়ার পর দায়িত্ব দেয়ার আগে তাদের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সেই প্রশিক্ষণের একটা বড় অংশজুড়ে মানুষের সাথে তাদের আচরণটা কেমন হবে সেটা থাকা উচিত। কারণ তারা জনগণের সেবক। জনগণের সেবা করার জন্যই তাদের অপরাধীদের ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। তবে কঠোর হওয়া আর বেয়াদবী করা এক নয়।

৫. আমরা সবাই ২৫ সেকেন্ডের ভাইরাল ভিডিও দেখেই সেই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে শুলে চড়াতে তৈরি। কিন্তু আমি পরে ৬ মিনিট ৪১ সেকেন্ডের পুরো ভিডিওটা দেখেছি। তাতে আমি সেই তরুণের কৌশলে মুগ্ধ। তিনি সেই ব্যবসায়ীর এলাচের আমদানী মূল্য, শুল্ক, নামানো-ওঠানো, পরিবহন খরচ, ব্যবসার লাভসহ হিসাব করে সর্বোচ্চ বিক্রয় মূল্য কত হওয়া উচিত, তা বের করেছেন। কিন্তু সেই ব্যবসায়ী তারচেয়েও অনেক বেশি দামে বিক্রি করছিলেন। তরুণ ম্যাজিস্ট্রেট যেভাবে ধাপে ধাপে হিসাব করে দাম বের করছিলেন, তাতে ব্যবসায়ী

নিজের ফাঁদে নিজেই আটকে যাচ্ছিলেন। বয়সজনিত উত্তেজনা ও ক্ষমতাজনিত উত্তাপ একটু হোল্ড করতে পারলে এই তরুণ ভবিষ্যতে অনেক ভালো প্রশাসক হতে পারবেন। শাসন করতে হয় আইন দিয়ে, যুক্তি দিয়ে; ধমক দিয়ে নয়।

প্রভাষ আমিন: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ

১৩ মার্চ, ২০২৩