প্রকাশিত: Sat, May 4, 2024 12:44 PM
আপডেট: Thu, Mar 12, 2026 12:22 PM

মিল্টন সমাদ্দার গ্রেপ্তার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া

 এ বি এম কামরুল হাসান : মিল্টন সমাদ্দার গ্রেপ্তার হয়েছে। দেশজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছেন, মিল্টন যতোটুকু ভালো কাজ করেছে, তাইবা কজন করে। আবার অনেকে বলছেন, মিল্টন অনেক ভয়ঙ্কর কিছু কাজ করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। আবার কেউবা  বলছেন, মিডিয়ার লোকজন সত্য বলছে না। যা বলছে, তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এসব দেখে শুনে আমরা আমজনতা দিকবিদিকহীন। দিশা খুঁজে পাই না। কোনটা সত্যি, আর কোনটা মিথ্যা, তা নিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলছি। সত্য মিথ্যা খোঁজার দায়িত্ব আম জনতার না। সেসব খুঁজবে আইনের লোকজন। মিল্টন সমাদ্দার এখন আইনের লোকের হাতে। তাতেই আম জনতার স্বস্তি। এবার নিশ্চয় জনতা জানতে পারবে কে সত্যি আর কে মিথ্যা। মিল্টন নাকি মিডিয়ার লোকজন।   আইনের লোকজন চুলচেরা বিশ্লেষণ করে যেন জনতাকে জানিয়ে দেয়, মিল্টন যা করছে, তা ঠিক করছে, নাকি বেঠিক করছে। যা করছে, তা কি মানবতার পক্ষে নাকি মানবতাবিরোধী। আসলেই কি কিডনি বা অন্য অঙ্গ বিক্রি করছে। নাকি সব ভাওতাবাজি। নাকি আয়নাবাজি। মিডিয়া যা  লিখছে, তা কি ঠিক? নাকি সব বাড়াবাড়ি। 

এসব জানার অধিকার জনতার রয়েছে। আশা করি দ্রুততম সময়ে জনতা তা জানতে পারবে। নাকি সাগর রুনিকে কে বা কারা হত্যা করেছে, সে প্রশ্নের মতো এসব প্রশ্নও আকাশে মিলিয়ে যাবে। নাকি বৈশাখের আগুন ঝরা তেতাল্লিশ ঊর্ধ্ব সেলসিয়াসে উদ্বায়ু হয়ে যাবে। মিল্টন যদি কোনো অন্যায় করে থাকে, তার যেন বিচার হয়, শাস্তি হয়। মিডিয়া যদি অসত্য তথ্য দিয়ে বাড়াবাড়ি করে থাকে, তারও যেন শাস্তি হয়। মিল্টনের গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এসব কঠিন প্রশ্নের যেন সহজ উত্তর বেরিয়ে  আসে, এ প্রত্যাশা আমাদের সবার।   পরিশেষে, সমাজসেবা অধিদপ্তরের কাছে মিনতি, মিল্টনের অবর্তমানে তার আশ্রমে আশ্রিতদের কদরের যেন কমতি না হয়। তাদের তিনবেলা যেন আহার জোটে। ওষুধ পথ্যের যেন ঘাটতি না হয়। তাকে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে যেয়ে আশ্রিতরা যেন অন্ন, বস্ত্র বা চিকিৎসাহীনতায় কষ্ট না পায়। সবার মনে রাখা  প্রয়োজন, আশ্রিতরা তো কোনো অন্যায় করেনি। সমাজ সেবা অধিদপ্তর আশ্রিতদের আপাতত দেখভাল করবেন, সে প্রত্যাশা আমজনতার।  লেখক : প্রবাসী চিকিৎসক ও কলামিস্ট